সরওয়ার কামাল,মহেশখালী :: লবণ আমদানীর খবরে মহেশখালীর হাজার হাজার চাষীদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লবণ মিল মালিক ও সংশ্লিষ্ট আমলাদের কারসাজিতে বিদেশ থেকে ১ লক্ষ মেঃ টন লবণ আমদানীর সিদ্ধান্তে হাজার হাজার লবণ চাষী ও শ্রমিকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।
লবণ আমদানীর বিরুদ্ধে মহেশখালী কুতুবদিয়া, চকরিয়া, ইদগাহ এবং কক্সবাজার জেলা শহরে সংগঠিত হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা।
এই লবণ আমদানী বন্ধ করে দেশীয় লবণ শিল্প বাচানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে মরিয়ম আক্তার গং আবেদন করিলেও সরজমীনে মজুদ লবণের তথ্য না নিয়ে একতরফ ভাবে লবণ আমদানীর সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে বলে আবেদনকারী জানান।
গত বছর শিল্প লবণের নামে বন্ড সুবিধায় বিভিন্ন সংস্থা লবণ আমদানী করতঃ কৌশলে বিভিন্ন লবণ মিলে বিক্রি করাতে সারা বছর লবণের মূল্য কমে যাওয়ায় দেশীয় লবণ শিল্প মারাত্বক হুমকিতে পড়েছে।
পানির দরে উৎপাদিত বিক্রিতে বাধ্য হওয়ায় চাষীদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা।
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও এনবিআর কর্তৃক অনুমোদন ক্রমে শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ সালফেট জাতীয় লবণ বডেট তথা ওয়ার হাউজ সুবিধায় এবং শিল্প আইআরসির মাধ্যমে আমদানী করে আসছে।
এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৫.৭০ লক্ষ মেঃ টন ডাইসোডিয়াম সালফেট এবং ০.১৫ লক্ষ মেঃ টন সোডিয়াম সালফেট আমদানীর হয়েছে সূত্রে জানায় ক।
অন্যদিকে, বিডা এর সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৫.১৫ লক্ষ মেঃ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ আমদানী করেছে বলে জানা গেছে।
ওয়াশিং প্লান্টের কাচামাল হিসাবে কস্টিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য তাসনিম ক্যামিকেল কমপ্লেক্স লিঃ ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১,১৭,৪৪০ লক্ষ মেঃ টন লবণ অতিরিক্ত আমদানী করার তথ্য এনবিআর এর সূত্রে জানা যায়।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমূহ শিল্প মন্ত্রনালয় হতে প্রাপ্যতার সীমা এবং সুপারিশ গ্রহণ না করেই লবণ আমদানী করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
উল্লেখ্য যে, দেশে উৎপাদিত লবণের তুলনায় ডাইসোডিয়াম সালফেট ও সোডিয়াম সালফেট এর আমদানী মূল্য কম থাকায় এবং অন্যদিকে সাধারণ লবণ আমদানীতে বিধি নিষেধ থাকায় অধিক পরিমাণ ডাইসোডিয়াম সালফেট ও সোডিয়াম সালফেট আমদানী হচ্ছে।
এছাড়া ডাইসোডিয়াম সালফেট, সোডিয়াম সালফেট দেখতে একই রকম হওয়ায় মিথ্যা ঘোষনার নামে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ আমাদানীর সুযোগ রয়েছে।
পোষক প্রতিষ্ঠান বিভা এর নিকট চাহিদার থেকে বেশি আমদানী সুপারিশ নিয়ে কস্টিক সোভা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণে কাচামাল হিসাবে বোল্ডার লবণ আমদানী করে মুনাফা অর্জন করিতেছে।
এইভাবে বন্ড ওয়ার হাউজ সুবিধায় এবং শিল্প আইআরসি এর মাধ্যমে পোষক এর সুপারিশ নিয়ে কাচামাল হিসাবে এইচএস
কোড নং ২৫০১.০০.২০ মূলে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমাদানী করে বিভিন্ন লবণ মিলে বিক্রয়ের মাধ্যমে দেশীয় লবণ শিল্পের সর্বনাশ করতেছে।
অন্যদিকে, যেসকল শিল্পে কাচামাল হিসাবে দেশীয় লবণ ব্যবহার হত তুলনামূলক কম দামের কারণে সেসকল শিল্পে আমাদানীকৃত সালফেট জাতীয় লবণ ব্যবহার হওয়ায় শিল্প খাতে দেশীয় লবণ ব্যবহার কমে যাচ্ছে। ফলে লবণ চাষীরা উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছে না।
সুতরাং সালফেট জাতীয় লবণের আমদানী শুল্ক হার পুনঃনির্ধারণ এবং সোডিয়াম সালফেটের নামে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ আমাদানী বন্ধ করা, খালাসের পূর্বে যথাযথ পরিক্ষা নিশ্চিত করা সহ আমদানী নীতি ২০২১-২৪ এর পাশাপাশি জাতীয় লবণ নীতি-২০২২ এর লবণ আমদানী সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রতিপালন এর মাধ্যমে দেশীয় লবণ শিল্পকে প্রটেকশন দেয়া প্রয়োজন।
সুতরাং লবণ উৎপাদনে জড়িত বাশখালীসহ কক্সবাজার জেলার ৫ লক্ষ লোকের স্বার্থে এবং তাদের উপর নির্ভরশীল ২৫ লক্ষ লোকের জীবন জীবিকা কথা সুবিবেচনা করতঃ মাঠ পর্যায়ে কোনো প্রকার যাচাই বাচাই ছাড়া গৃহিত ০১ লক্ষ মেঃ টন লবণ আমদানীর সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করার জন্য সরকারের নিকট সংশ্লিষ্টরা আবেদন জানিয়েছেন। কক্সবাজারের লবণের সাথে সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ মানুষ।














